ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই সড়কে বাড়ছে প্রাণহানি

  • আপলোড সময় : ১২-১১-২০২৪ ০২:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-১১-২০২৪ ০২:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই সড়কে বাড়ছে প্রাণহানি
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সড়কে আশঙ্কাজনকভাবে প্রাণহানি বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়ই ১০৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। তাছাড়া ওই মাসে ঘটা ৫৮৩টি দুর্ঘটনার ১৩২টিই হয়েছে মোটরসাইকেলে। দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিতে দুই চাকার বাহনটির শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, একক যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেলই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির জন্য দায়ী। শুধু দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি নয়, সড়কে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলার পেছনেও মোটরসাইকেল মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো মোটরসাইকেলের মতো বাহনের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর মান খারাপ। ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতায় বিশৃঙ্খলা নিত্যদিনের ঘটনা। ওসব সড়কে মিশ্র যানবাহন চলে। পথচারীর আধিক্য রয়েছে। সড়কের এমন পরিবেশের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে চার চাকার যানবাহন কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারে। কিন্তু দুই চাকার মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এ চাপ সামলানো কঠিন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৬১ লাখ ৭৫ হাজার মোটরযান রয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই ৪৫ লাখের বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দিয়েছে বিআরটিএ। যা একই সময়ে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৮৫ শতাংশ। তাছাড়া বিগত ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে ৩৫০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন সক্ষমতার মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমোদন দেয়। উচ্চ ক্ষমতার ওই যানটি বাজারজাত ও রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ উচ্চ ক্ষমতার মোটরসাইকেলের মধ্যে এক ধরনের নস্টালজিয়া রয়েছে, একটা আভিজাত্যের ভাব আছে। এই ভাব মানুষকে গতির ঝড় তোলার জন্য উন্মাদ করে তোলে। ওই উন্মাদনা মোটরসাইকেল চালক বা আরোহীকে তো ঝুঁকিতে ফেলেই, পথচারী বা অন্যান্য যানবাহনের আরোহীদেরও বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। সূত্র আরো জানায়, যানজট এড়াতে বিকল্প বাহন হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহারের যৌক্তিকতা অনেক সময় তুলে ধরা হয়। কিন্তু উচ্চ ক্ষমতার মোটরসাইকেল যানজট এড়ানোর বিকল্প নয়, এগুলো হলো মৃত্যুফাঁদ। সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে ৩৫ শতাংশই মোটরসাইকেলের আরোহী মারা গেছে। আর মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে যে কত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ১২ শতাংশ। দেশে মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। আর এ বাহনের চালকদের বিরাট অংশ কিশোর ও যুবক। এদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা এবং না মানার প্রবণতার কারণে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহী করে তোলে এমন কোনো পদক্ষেপ সরকারের গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ যেকোনো চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপনে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করে, সেগুলো খুবই উত্তেজনাকর। এগুলোর মধ্য দিয়ে কিশোর-তরুণরা বেপরোভাবে মোটরসাইকেল চালাতে উৎসাহী হয়। মোটরসাইকেল প্রসার ঘটানোর চেয়ে সরকারের গণপরিবহনের দিকে নজর দেয়া জরুরি। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান জানান, মোটরসাইকেলের সংখ্যা যত বেশি হবে, বাহনটিতে দুর্ঘটনার সংখ্যাও তত বাড়বে, এটা দেশে দেশে পরীক্ষিত। বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দুর্ঘটনা কমাতে জাপান মোটরসাইকেলের সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। গত এক দশকে দেশটিতে মোটরসাইকেল কমনো হয়েছে কমবেশি ২৫ লাখ। এর ফলও হাতেনাতে পেয়েছে জাপান, দুর্ঘটনা কমে অর্ধেক হয়েছে। আর বাংলাদেশ হাঁটছে ঠিক এর উল্টোপথে। এখানে মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক আগেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এখনই এ সংখ্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স